সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ চাকরিচ্যুত হচ্ছেন

Header

রির্পোটিং প্রতিবেদন :  অবশেষে চাকরিচ্যুত হচ্ছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ (মনি)। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এপিএস ছিলেন। কর্মস্থলে যোগদান না করে দেশের বাইরে দীর্ঘকাল থাকায় ‘পলায়নের অভিযোগে’ তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারির অননুমোদিতভাবে বিদেশে থাকার সুযোগ নেই। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সব ধাপ অনুসরণ করে তাকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।’

সূত্র জানায়, মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ ২০১৯ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ডা. দীপু মনি শিক্ষাামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি দেশ ছাড়েন। ২০০৯ সালে নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর টানা আট বছর তার এপিএস ছিলেন তিনি। ওই সময় শিক্ষাখাতের বদলি ও পদায়নসহ সবকিছু তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তৈরি করেছিলেন একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটকে ঘুষ দিলে সহজেই পছন্দ মতো জায়গায় বদলি হতে পারতেন কর্মকর্তারা। ওই সিন্ডিকেটের অনেকেই এখনও শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

ads

তথ্য অনুযায়ী, এপিএস থেকে অপসারণের পর তাকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিদর্শক (কলেজ) পদে বদলি করা হয়। এর কিছুদিন পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সেখান থেকে সরিয়ে খুলনার বিএল কলেজে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি সে কলেজে যোগদান করেননি। ওই বছরের ১২ এপ্রিলের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়। অথচ তার বেশ আগেই তিনি কোনো অনুমতি না নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান। এরপর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তিনি আর কোনো যোগাযোগ করেননি। এমনকি কোনো চিঠিরও উত্তর দেননি।

সবশেষ চলতি বছরের (২০২২ সাল) জানুয়ারিতে তার কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বলা হলেও আপনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদায়ন-বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *