কয়রায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে চরম ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

Header

উপকুলীয় জনপদ কয়রায় গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষনে ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্বল বেড়িবাঁধ। ভাঙ্গন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটোচ্ছে নদী পাড়ের মানুষেরা। পানি বৃদ্ধিতে যে কোন মুর্হুতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে লোনা পানি প্রবেশ করতে পারে এমন আতংকে রয়েছে উপকূলীয় জনপদ কয়রার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলায় পাউবোর ১৩-১৪/১ ও ১৩-১৪/২ এ ২টি পোল্ডারে ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে ১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। যার ফলে এ সকল বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকায় লোনা পানি প্রবেশ করতে পারে। কয়রার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ গুলো হচ্ছে মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া,লোকা,বিন্দপুর,
মঠবাড়ী ও পবনা।

কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ লঞ্চঘাট,হরিণখোলা,হামকুড়ার গোড়া,ঘাটাখালী, ৪নং কয়রা লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাতানী, দক্ষিন ভাগবা ও হড্ডা ফুলতলা। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাঠকাটা, কাটমারচর, হাজতখালী, হরিহরপুর ও গাতীরঘেরী। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা, মেদেরচর গোলখালী, বীনাপানি, জোড়শিং ও আংটিহারা।

 

ads

উত্তর বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি বলেন, নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকায় লোনা পানি প্রবেশ করার সম্ভবনা রয়েছে। এই ইউনিয়নটি মূলত নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলি সংস্কার করা না হলে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পাউবোর আমাদী সেকশান কর্মকর্তা মসিউল আবেদিন বলেন, আইলা ও আম্ফান পরবর্তী সময়ে বাঁধগুলি মেরামত করে লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ করা হলেও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নদীতে পানি বৃদ্ধিপাওয়ায় ঝুঁকিপুর্ণ কয়েকটি স্থানে জরুরীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাড়াতাড়ি সেই সব এলাকায় কাজ
করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিশেষ বিশ্বাস বলেন,কয়রার মানুষের বাঁচা-মরার সঙ্গী পাউবোর বেড়িবাঁধ। সেজন্য উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান করা খুবই জরুরী। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস.এম শফিকুল ইসলাম বলেন, নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ কয়রা উপজেলার মানুষ সার্বক্ষণিক ভাংঙন আতংকে থাকে। প্রতিনিয়ত বাঁধ ভেঙে এলাকায় লোনা পানি প্রবেশ করে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেজন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান সময়ের দাবি।

কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, উপকুলীয় জনপদ কয়রায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করা হবে।

ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *