এমপিওভুক্তির আবেদন করেও যেকারনে বাদ পরেছে অসংখ্যা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

Header

রির্পোটিং  নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছে সরকার। এ তালিকায় ৬৬৫টি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭টি এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান, ২০০টি এইচএসসি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান, ২টি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার প্রতিষ্ঠান, ২৬৪টি দাখিল মাদরাসা, ৮৫টি আলিম মাদরাসা, ৬টি ফাজিল মাদরাসা, ১১টি কামিল মাদরাসা রয়েছে। এমপিওভুক্তির আবেদন করে অনেক কারিগরি প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত হতে পারেনি। এমপিওভূক্তি হতে না পারার পেছনে একধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে । সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষায় এমপিও দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মিত শিক্ষার্থী ও তাদের ফলাফল বিবেচনায় নিলেও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা বিভাগ এটিকে বাদ দিয়েছেন। কিন্তু নীতিমালায় কোথাও উল্লেখ নেই যে অনিয়মিতদের বাদ দিতে হবে।

সাধারণ শিক্ষায় বিশেষ বিবেচনায় ১২৭ টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করা হয়েছে অপরদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করা হয়েছে। কৃষি প্রধান দেশ হওয়া সত্বেও এবছর মাত্র ২টি কৃষি ডিপ্লামা ইনস্টিটিউটকে এমপিওভূক্ত করা হয়েছে।

এমপিওর আবেদন করেও নির্বাচিত না হওয়া মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আপিল করার সুযোগ দিয়েছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২১ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে আপিল আবেদন করতে পেরেছেন মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা। এসময় বেশ কয়েকটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর ধরে কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। এমপিওভূক্ত না হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষকরাই এখন পাঠদানে অনিচ্ছা পোষন করছে। দিন দিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। যা সরকারের চাহিদার সম্পূর্ণ বিপরীত।

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আব্দুল কুদ্দস সরকার কৃষি কলেজ ও গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শরীফ আহম্মেদ জানান, কোন ধরনের সরকারি অনুদান ছাড়াই প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। শুরুতে বেশ কয়েক বছর শ্রেনীকক্ষ পরিপূর্ন ছিল । শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানও বেশ ভালো। কিন্তু ২০১৫ সালের পর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। এর কারন হিসেবে তিনি শিক্ষকদের চাহিদা অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা না দিতে পারার কথা জানান।

তিনি বলেন, ২০ বছর একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। নিজের জমি বিক্রি করতে হয়েছে। সরকার কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই আমরাও আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু নানান অযুহাতে ২০ বছরেও আমার প্রতিষ্ঠাটি এমপিওভূক্ত করা হয় নি।

ads

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যেসকল কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করা হয়। সেসকল প্রতিষ্ঠানের শতকরা ৮০জন শিক্ষক-কর্মচারিই বিভিন্ন প্রকার ঠুনকো অজুহাতে বেতন-ভাতা থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছে। অপরদিকে সাধারণ শিক্ষায় একইসময়ে এমপিওভূক্ত হওয়া ১০০ভাগ শিক্ষক-কর্মচারিরাই নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

বাকেরগঞ্জ আতাহার উদ্দিন টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের যোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মান যাচাই করেই প্রতিষ্ঠানের এমপিও দিয়েছেন । আমরা অযোগ্য হলে প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত হতো না। অজানা কারনে আমরা বেতন-ভাতা হতে বঞ্চিত। বারবার মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন করা সত্বেও কোন ফলাফল পাই নি।

এবিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (এমপিও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সফটওয়্যারে ভূল থাকার কারনে আমাদের অনিয়মিত ক্যাটাগরিটা রয়ে গেছে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষায় যেটা নেই। তাই এমন গড়মিল হয়েছে।

এ সম্পর্কে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ কামাল হোসেনের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য দিতে রাজি হন নি।

ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *