আমাদের সরকারের সবাইকে বলেছিলাম এবার কিন্তু বন্যাটা একটু বড় আকারে আসবে:প্রধানমন্ত্রী

Header

রির্পোটিং ডেস্ক :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন যে, পদ্মা সেতুটি বন্যার এই প্রেক্ষাপটে সহজ যোগাযোগে জাতির জন্য একটি আশীর্বাদ হবে, কারণ সরকার এটি ২৫ জুন উদ্বোধন করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘২৫ তারিখে পদ্মা সেতু আমরা উদ্বোধন করবো ইনশাল্লাহ এবং এই উদ্বোধনের পরে এটাও আল্লাহর একটা আশির্বাদ হবে। কেননা, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগটা আমরা অব্যাহত রাখতে পারবো।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার বন্যাটা একটু বড় আকারে আসবে এমন আশঙ্কার কথা সরকারের সবাইকে আগেই জানিয়েছি। কাজেই সেভাবে আগে থেকে আমাদের প্রস্তুতি আছে। বন্যায় মানুষের যাতে করে কষ্ট না হয়, সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

আজ রবিবার (১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে দেশের কৃতি ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে সুনামগঞ্জের পানি একটু কমতে শুরু করেছে। এই পানি যখন নামবে, মধ্য অঞ্চল যখন প্লাবিত হবে, এরপর আবার দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।’

তিনি বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজ; সবই করছি। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌ বাহিনী থেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠান উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও সহযোগিতা করছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ করছে। স্যালাইন ও পানির ট্যাবলেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সাথে অন্যান্য ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে যে পরিস্থিতি হতে পারে তার প্রস্তুতিও আমরা নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেরও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সেটা আগে থেকে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য যা যা ব্যবস্থা যেটাও করে যাবো।’

ads

দেশে ১০-১২ বছর পরপর এ ধরনের ‘বড় বন্যা’ আসে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সবাইকে অনেক আগে থেকেই সতর্ক করেছিলাম। আমাদের সরকারের সবাইকে বলেছিলাম এবার কিন্তু বন্যাটা একটু বড় আকারে আসবে। কাজেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। ফলে আমাদের প্রস্তুতি আছে। এই পানি যখন নামবে, মধ্য অঞ্চল যখন প্লাবিত হবে। ঠিক শ্রাবণ মাস পর্যন্ত থাকবে। শ্রাবণ থেকে ভাদ্র আবার দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত হবে।’

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা আয়োজনের কারণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারাদেশ থেকে এই খেলোয়াড়রা আসছে। সংবর্ধনার কর্মসূচী আগেই নির্ধারণ করা ছিল, এটা আমরা করেছি। আমরা এটা করতে পারি। দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থা নিতে আমরা পারি। সেই সঙ্গে জীবনতো চলতে হবে। আমরা পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবো।’

খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের প্রসার ঘটুক, আমরা সবাই সেটা চাই। সরকারে না থেকেও খেলাধুলার উন্নতি নিয়ে চিন্তা করতাম। এদিকে নজর রাখতাম। খোঁজখবর নিতাম। আমার বাবা ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন, আমার দাদাও ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন। আমার দাদা এবং দাদার ছোট ভাই সবাই ওই অঞ্চলে ফুটবল খেলতেন।’ খেলাধূলাকে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে দেশে বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ তৈরীতে তাঁর সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যাও আমরা মোকাবিলা করবো এবং খেলাধূলাও আমাদের চলবে, সবই আমাদের চলবে। এটাই আমাদের জীবন এটাকেই মেনে নিতে হবে ।
এটাই বাস্তব এবং বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হবে এবং বিশ্ব সভায় আমরা মাথা উঁচু করেই চলবো-উল্লেখ করেন তিনি।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাফ-২০২১ চ্যাম্পিয়ন মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ফুটবল দলের ৩৩ জন সদস্যসহ মোট ৮৮ জন ক্রীড়াবিদকে আর্থিক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অপর ৫৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল সিরিজ ২০২০-এর ৩৩ জন এবং বঙ্গবন্ধু ৪-জাতি ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২২-এর বিজয়ী ২২ জন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সাফ-২০২১ চ্যাম্পিয়ন মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন মারিয়া মান্দা, খেলোয়াড় মনিকা চাকমা এবং প্রধান প্রশিক্ষক গোলাম রব্বানী ছোটন, বাংলাদেশ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ফয়সাল খান এবং বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন জামাল ভূঁইয়ার হাতে আর্থিক সম্মানীর চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তিন শ্রেণীর ক্রীড়া দলের উপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি (বাফুফে) কাজী মো. সালাহউদ্দিন, মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা এবং বাংলাদেশ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ফয়সাল খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতু এমন একটা সময় উদ্বোধন করতে যাচ্ছি, যখন একদিকে বন্যা শুরু হয়ে গেছে। এই বন্যা কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলেও যাবে। আমি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে সব থেকে ভয়াবহ বন্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হয়। ঠিক সেই বন্যা শুরুর আগেই কিন্তু যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন করেছিলাম। সেটা উদ্বোধন করেছিলাম বলেই তখন সুবিধাটা হয়েছিল। উত্তরবঙ্গ থেকে পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সব কাজগুলো করা যাচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বন্যায় যেহেতু আমাদের নদী অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে খরস্রোতা হয়ে ওঠে, যোগাযোগের সুবিধা থাকে না। কিন্তু সেই সময় আমাদের এই দক্ষিণ অঞ্চল প্লাবিত ছিল, উত্তর অঞ্চল থেকে আমরা সবসময় সহযোগিতা পেয়েছিলাম, সেই সময় বন্যা আমরা খুব সফলভাবে মোকাবিলা করেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘তখন (১৯৯৮ সালে) ইউএনডিপি-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বলেছিল, এই বন্যায় ২ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। আমি বলেছিলাম, একটা মানুষকেও আমি না খেয়ে মরতে দেবো না, আমরা দেইনি। ওই সেতুটা যখন আমরা উদ্বোধন করেছিলাম আমাদের বন্যা মোকাবেলা অনেক সহজ হয়েছিল। ঠিক আমি জানি না, আমার আজকে এই কথাটা মনে উঠলো যে আমরা ২৫ তারিখে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবো ইনশাল্লাহ।

ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *